shodagor.com এর সাথে যুক্ত হল বাবুরহাটের ব্যবসায়ীরা

বাবুরহাট

নরসিংদীর বাবুরহাট

আজকে আমি আপনাদের নরসিংদীর বাবুরহাট নিয়ে কিছু কথা বলতে চলেছি ।

মাধবদী বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের নরসিংদী জেলার অন্তর্গত একটি পৌরশহর।

মাধবদী একটি টেক্সটাইল শিল্প এবং বাণিজ্যিক এলাকা যেখানে স্বয়ংক্রিয় এবং হস্ত-চালিত তাঁত বয়ন এবং উৎপাদন কারখানা (প্রায় ৩০০০-৪৫০০) রয়েছে।

এখানে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ৪৫,০০০ লোক কর্মরত।

বাবুরহাট বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ কাপড়ের বাজার।

বাবুরহাট

ঢাকা থেকে ৩৫ কিমি দূরে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে নরসিংদী জেলার সদর থানায় শেখেরচরে অবস্থিত।

এই বাজারের পুরো নাম শেখেরচর Baburhat।

ঢাকা থেকে শেখেরচর যাওয়ার পথে এর আগেই আর একটি হাট আছে।

তার নাম মাধবদির হাট বা মাধবদি Baburhat।

সেটি নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানায় অবস্থিত।

কথিত আছে, এই অঞ্চলের জমিদার আশু বাবু প্রথমে তিরিশের দশকে মাধবদিতে হাট বা বাজার প্রতিষ্ঠা করেন,

কিন্তু কোন কারণে তার ভাই কালী বাবুর সঙ্গে তার ঝগড়া হলে কালী বাবু, প্রমথ বাবু ও গোপাল বাবু শেখেরচরে Baburhat প্রতিষ্ঠা করেন।

অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন Baburhat বড় বাজার হিসেবে দাঁড়িয়ে যায় এবং সেই থেকে এটিই বাবুরহাট নামে প্রসিদ্ধ হয়।

এ অঞ্চলটি বহুকাল থেকেই তাঁত বস্ত্রের জন্য প্রসিদ্ধ।

তাঁতিরা সারা সপ্তাহে যে কাপড় তৈরি করত সেগুলি হাটবারে এখানে নিয়ে আসত ও পাইকারদের নিকট বিক্রয় করত।

এমনি করে ধীরে ধীরে হাট জমে উঠতে থাকে। এক সময় কেবল নদীপথেই পাইকাররা এখানে কাপড় কিনতে আসত।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় মোমিন কোম্পানি রাস্তা তৈরি করে বাস সার্ভিস চালু করে। অবশ্য নিকটেই রয়েছে নরসিংদী রেল স্টেশন।

নদীপথে, রেলপথে ও সড়কপথে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এসে হাট থেকে কাপড় কিনে নিয়ে যায়।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে নরসিংদী সদর উপজেলার শেখেরচরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এই বাবুরহাট।

প্রসিদ্ধ এই হাটে প্রায় সব ধরনের কাপড়ই পাওয়া যায়। মাথার টুপি থেকে শুরু করে শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা,

পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, শার্ট-প্যান্ট, বিছানার চাদর, থান কাপড় সবই পাওয়া যায়।

রাজশাহী, বগুড়া, সিলেট, বরিশাল, জামালপুর, ভোলা, সিরাজগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ,

টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জসহ দেশের নানা প্রান্তের পাইকারি ক্রেতারা এসে নিয়ে যান এখানকার এসব কাপড়।

Baburhat

এখানকার ঘর মালিক সমিতির সদস্যরা সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা দেন।

টোল-খাজনা প্রথা না থাকায় বাবুর হাটই ব্যবসায়ীদের প্রথম পছন্দ। এছাড়া এক হাটে সব ধরনের কাপড় পাওয়া যায়, যোগাযোগব্যবস্থাও ভালো।

এই হাটে প্রতি সপ্তাহে ৬০০ কোটি থেকে ৭০০ কোটি টাকার ওপরে কাপড় বেচাকেনা হয়।

এই হাটে পাবনা, টাঙ্গাইল, মিরপুরি কাতান, বেনারসি, দেশীয় তাঁতের শাড়ি, স্ট্যান্ডার্ড লুঙ্গি, অনুসন্ধান, এটিএম, স্মার্ট, বোখারি,

রুহিতপুরী, ফজর আলী লুঙ্গি, গামছা, চাদর, থান কাপড়, থ্রি-পিসসহ বিভিন্ন ধরনের মানসম্মত কাপড় বিক্রি হয়।

সপ্তাহের তিনদিনে বিক্রি-বাট্টা হয় অবিশ্বাস্য অংকে। এক রাতেই বিক্রি হয় প্রায় চারশ’ কোটি টাকা।

তিনদিনে যার পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার ওপর। সেই হিসাব মেলাতে মেলাতেই ফিরে আসে নতুন সপ্তাহ।

নিশুতি রাতের সুসুপ্তি যখন চরাচরজুড়ে নিথর-নিস্তব্ধতা অধিকার করে নেয় তখনো এ হাটের চারদিকে হাঁক-ডাক।

দরদামের কোলাহল, কুলিদের ব্যস্ততা। দোকানের সামনে ভ্যানের দীর্ঘ সারি।

হাটের গা-ঘেঁসে বড় সড়কে ট্রাকের বহর, শত শত ট্রাক। কাপড়ের বিশাল গাঁট উঠছে, নামছে। লোড নিয়ে ছুটে চলেছে দূর-অদূর গন্তব্যে।

হাটের দিনগুলোতে হাট এলাকা সরগরম হয়ে ওঠে। পণ্যবাহী শত শত ট্রাক, বাস ও ভ্যান গাড়ির ভিড় জমে মহাসড়কে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে হয় শত শত কোটি টাকার লেনদেন। আর কাপড়ের ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই এখানে রয়েছে দেশের প্রায় সব ব্যাংকের শাখা।

ব্যাংকের সবগুলো শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকেন লেনদেন নিয়ে।

প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার খ্যাত এই বিখ্যাত হাট, দেশের মোট কাপড়ের সিংহ ভাগ ই যোগান দিচ্ছে।

সু-প্রাচীন এই হাট শতাব্দী পেরিয়ে মহাকালের পথে যাত্রা করলে ও এই হাটের রূপ আভিজাত্য একটুও কমেনি।

বাণিজ্য বসতে লক্ষ্মীর ‘হাট’ বসে এখানে।

শুক্র থেকে রবিবার–এই তিনদিন সারাদেশের কাপড় বা বস্ত্র পাইকার-ব্যবসায়ীদের বিপণন-তীর্থ হয়ে ওঠে ব্রহ্মপুত্র পাড়ের এই মোকাম।

তিনশ বছরে কিংবদন্তি হয়ে ওঠা এই বস্ত্র-হাটের অলিগলিতে আলো-আঁধারিতে টিনের ছাউনি দেয়া হাজার হাজার দোকানের বিস্ময়।

হাজারো ক্রেতার ভিড়ে পা ফেলা দায়।

ব্যবসায়ীদের জন্য এখানে দিন-রাতের ফারাক থাকে না। নাওয়া-খাওয়া-ঘুমের ফুরসত মেলা দায়।

সেই ১৭১৭ সাল থেকে আজ অব্দি ব্যবসায়ের কৌলিণ্য এই হাটকে ইতিমধ্যে ‘প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার’ পরিচিতি দিয়েছে ‘উইকিপিডিয়া’র পাতায়।

বাবুরহাট মানে থান কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে রঙের গন্ধ। বেশি ক্রেতা, বেশি বিক্রি। সন্নিহিত তল্লাটের তাঁতকল থেকে তৈরি হয়ে কাপড় আসছে আর বিক্রি হচ্ছে।

এর বাইরে আর কোন দৃশ্য নেই। একসময় কেবল শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা ও চাদরের জন্য যে বাবুরহাটের সুখ্যাতি ছিল তার বর্ণাঢ্য এখন প্রশস্ত হয়েছে।

Baburhat

বর্তমানে এই হাটটি বাংলাদেশের সবচে’বড় তাঁতবস্ত্র বিপণন কেন্দ ।

বাবুরহাটকে কেন্দ করে নরসিংদী ও তার সন্নিহিত নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর জেলায় গড়ে উঠেছে হাজার হাজার তাঁতকল।

তাঁতশিল্পকে ঘিরে জেলার বিভিন্নস্থানে গড়ে উঠেছে শতাধিক সহায়ক শিল্প প্রতিষ্ঠান। এখানে কর্মসংস্থান হয়েছে লাখ লাখ বেকার মানুষের।

এতসবকিছুর পরও অবহেলার তিমিরে ডুবে আছে বাবুর হাট। সরকার আসে, সরকার যায়- এই হাটে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে না।

রাস্তাঘাট এখনও কাঁচা । নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা। একটু বৃষ্টি হলেই জল-কাদায় একাকার। মাল যানবাহনে লোড-আনলোড করতে খুবই অসুবিধা হয়।

বাবুরহাটে আসা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, ‘বাবুরহাটের অনেক ঐতিহ্য ও সুনাম রয়েছে।

তবে সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে এখানে কোনো টোল (খাজনা) দিতে হয় না। এ ছাড়া এখানে লাখ লাখ টাকা হাতে নিয়ে ঘুরলেও কোনো সমস্যা হয় না।

এ কারণে শত সমস্যা থাকা সত্ত্বেও আমরা এই হাটে আসি।’

শেখেরচর-বাবুরহাট বণিক সমিতির সহসভাপতি আব্দুল বারিক বলেন, সপ্তাহের তিন দিনের হাটে কমপক্ষে ৭০০ কোটি টাকার বেচাকেনা হয়।

বাবুরহাটকে কেন্দ্র করেই নরসিংদীতে বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তার মধ্যে লাখ লাখ শ্রমিক কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছেন।

আমরা শিল্পমালিকরাও এ হাটের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন করে থাকি। আমাদের উৎপাদিত অধিকাংশ কাপড়ই বাবুরহাটে বেচাকেনা হয়ে থাকে।’

শেখেরচর-বাবুরহাট বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন,

‘আমরা সরকারের কাছ থেকে প্রতিবছর ২৫-৩০ লাখ টাকায় হাটটি ইজারা নিই।

কিন্তু কোনো ক্রেতা বা বিক্রেতার কাছ থেকে কোনো রকম টোল আদায় করা হয় না।

যা বাংলাদেশে পাইকারি হাটে বিরল ঘটনা বলে আমি মনে করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Click to access the login or register cheese

Shop By Department